Sunday, August 21, 2016

ভালোবাসা আমাকে মানায় না

সব লেখা তো আর সবার ভালো লাগেনা।
এটা আপনার কাছে খারাপ লাগলো বাট অন্য কারোর কাছে ভালোও লাগতে পারে,
তাই খারাপ ভালো সবই পোস্ট করতে হয়, আজকের টা শুরু করি।
- হ্যালো! ভালো আছো?
- তোমাকে না বলেছি আমাকে আর ফোন করবেনা।
- কেন এমন করছ আমার সাথে? ফোনের অপর প্রান্তে কাঁদো কাঁদো স্বর দিপ্তীর। আমি কি করেছি?
- আমি তো তোমাকে বলেছি, আমি অন্য একটা মেয়ের সাথে রিলেশনে আছি, কথা কি মাথায় ঢোকেনা তোমার?
- তাহলে আমার কি হবে? আমার সাথে কেন ব্রেক-আপ করলে?
- তোমাকে এখন আর আমার ভালো লাগেনা।
-আমি বিশ্বাস করিনা।
এমন সময় হঠাৎ তীব্র মাথা ব্যাথায় চোখে অন্ধকার দেখতে থাকে সাগর, ফোন কেটে দিয়ে পেটে হাত দিয়ে চেপে ধরে ছটফট করতে থাকে।
সময় জ্ঞান হারিয়ে যায় মনে হতে থাকে যেন অনন্ত কাল ধরে এই মাথা ব্যাথা হয়েই যাচ্ছে।
যেভাবে আচমকা ব্যাথা টা এসেছিলো ঠিক সেভাবেই চলে যায় হঠাৎ করে।
সাগর ঘড়ির দিকে তাকায় প্রায় টানা তিন ঘণ্টা ধরে ছটফট করেছে সে।
ওষুধ খাবার সময় হয়ে এলো, এখনি আবার ডাক্তার আঙ্কেল আসবেন দেখে যাওয়ার জন্য।
সাগর জানে তার হাতে আর বেশীদিন সময় নেই, কিডনিটা দিন দিন খুব খারাপ হচ্ছে ধীরে ধীরে।
- দাদা ওষুধ খেয়েছিস?
- ওষুধ খেয়ে কি হবে বোন? সাগর মলিন স্বরে হেসে ওঠে।
- ছোট বোনটা থমকে দাঁড়ায়, কান্না আটকে রাখার আপ্রান চেষ্টা করেও আর না পেরে বের হয়ে যায় রুম থেকে।
সাগর বুঝতে পারে কাজটা ভালো হয়নি।
সে ওষুধ খেয়ে, বোনের কাছে গিয়ে বোনকে জড়িয়ে ধরে, বোন তার মাথায় হাত বুলাতে থাকে আর সাগর চুপ করে বোনের  কোলে মাথা দিয়ে বসে থাকে।
এমন সময় সাগরের ফোনে মেসেজ আসে একটা, স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখে দিপ্তীর মেসেজ।
“আই হেট ইউ” - তোমার সাথে আর কখনো যোগাযোগ করবোনা আমি। আমার ভাবতেই ঘৃণা হচ্ছে যে আমি তোমার মত ছেলে কে ভালোবেসে ছিলাম।
 
সাগরের চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে থাকে,
সে ফিস ফিস করে বলে, “আমাকে ঘৃণা করে তুমি সুখে থাকো দিপ্তী।
অন্য কাউকে ভালবেসো তুমি।
তুমি তো জাননা ভালোবাসা আমাকে আর মানায় না।”

 


ভালোবাসা মানে পাশে থাকা

এই গল্পটা সেই দুজনের,
যাদের সন্তান নেই, আর হবেও না কোনোদিন।
"কি ব্যাপার সকাল আটটা বাজে। আজ কি অফিসে যেতে হবে না নাকি?" - ঝুমের ডাকে চোখ ডলতে থাকে জীত।
জানালার পর্দাটা সরিয়ে দেয়ার সাথে সাথেই সকালের আলোটা চোখে এসে পড়ে জীতের।
বিছানার পাশেই ভেজা চুল ঝাড়তে শুরু করে ঝুম। 
ভেজা চুলের ছাট এসে জীতের মুখে পড়ে। 
জীত ঝুমের হাতটা ধরে কাছে নিয়ে এসে কপালে একটা চুমু একে দিয়ে বলে, "ভালোবাসি,ভালোবাসি, ভালোবাসি"
ঝুম ও জীতের নাকটা হালকা টেনে বলে, "ভালোবাসি,ভালোবাসি, ভালোবাসি"
এমনটা প্রতিদিনই হয়।
ভালোবাসা বাড়ে ধীরে ধীরে। কখনোই কমে না। 
ছ বছর হলো ঝুমের আর জীতের বিয়ে হয়েছে। 
এতটুকু পরিমান মন খারাপ করতে দেখেনি ঝুমকে। 
জীত এতেই খুশি। লাভ ম্যারিজ। দুজনকেই দুজন খুব সুন্দর করে বোঝে।
ঝুম কখনোই পুরো পৃথিবী দাবি করে না জীতের কাছে।
জীত ই তার জন্য যথেষ্ট। 
জীত ঝুমকে রাজকুমারী বলে ডাকে। 
ঝুমের খুব লজ্জা লাগে। আবার অনেক ভালোও লাগে।
জীত ঝুমকে ছাড়া কিচ্ছু বোঝে না। অফিসে যাওয়ার আগে ঝুম আমার রুমাল কই, ঝুম আমার মোবাইল কই,ঝুম আমার টাই কই,ঝুম আমার ফাইল কই, এইটা কই ওইটা কই নানা কথা বলে ঝুমকে অস্থির করে ফেলে। 
এমনকি টাইটাও নিজ হাতে বাধা শিখেনি কারন ঝুম বেধে দেবে বলে। 
বড্ড ক্লান্ত হয়ে যেত ঝুম। 
কিন্ত অফিসে যাওয়ার সময় যখন ঝুমের কপালে চুমু দিয়ে জীত বলে, 'সারাটাদিন তোমায় অনেক মিস করবো '
তখনই যেন ঝুমের ক্লান্তি নিমিষেই দূর হয়ে মুখে হাসি ফুটে ওঠে। 
পরম বিশ্বাসে মাথা এলিয়ে দেয় জীতের বুকে।
কিন্তু জীবনে সুখের পাশাপাশি দুঃখও আছে। 
জীত সবসময় তা লুকানোর চেষ্টা করে। 
ঝুম রোজ ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাদে। কিন্তু জীত ঝুমের শব্দ ছাড়া কান্না বুঝতে পারে। 
তখনই চোখের জল স্পর্শ করে ঝুমের অধর থেকে সরিয়ে দেয়। 
রাগ করে বলে, 'আবার কান্নাকাটি করলে আমি কিন্তু মরে যাবো ' এটা বলে জীতও কেঁদে দেয়। 
এভাবেই কষ্ট ঢেকে যায়। 
কিন্ত ঝুমের কষ্টটা যেন একটু বেশিই।
তিন বছর আগের ঘটনা। ছ মাসের অন্তঃস্বত্তা ঝুম। 
বেশ ভালোই চলছিল জীত আর ঝুমের দিনগুলো। 
পেটের ভেতর থাকা বাচ্চা টা পা দিয়ে ধাক্কা মারে আর ঝুম ব্যাথায় কাতরে ওঠে। এদিকে জীত হেসে হেসে প্রায় খুন।আর রেগে গিয়ে ঝুম বলত“ তোমার মতোই দুষ্টু হবে”।
কোনো এক দুপুরবেলা হঠাৎ বাথরুম থেকে চিৎকার এর আওয়াজ আসে। 
জীত বাথরুমের দরজা খুলে যেন চোখে মুখে অন্ধকার দেখা শুরু করলো।
বাথরুমের মেঝে রক্তে লাল হয়ে রয়েছে। 
আর ঝুম যন্ত্রনায় ছটফট করছে।
এরপরে ঘটনা স্বাভাবিক হতে পারতো।
কিন্তু ভাগ্যে হয়তো অস্বাভাবিক কিছু ছিল। 
প্রচন্ড আঘাতের কারনে মা হবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে ঝুম।
ঝুম শুধু কেঁদে যায় জীতের হাত ধরে আর জীত মিথ্যে শান্তনা দিতে থাকে।
"কাঁদছ কেন? 
ধুর পাগলি। ভগবান হয়তো আরো বড় উপহার রেখেছে আমাদের জন্য। কিচ্ছু হবে না।
কাঁদবে না তো। তাহলে কিন্ত আমি কেঁদে দেবো।"
মুহূর্তগুলো খুবই কষ্টকর।
এখনো ঝুম যখন বারান্দায় একা একা বসে থাকে তখন জীত পাশে গিয়ে বসে আকাশের দিকে আঙুল দেখিয়ে বলে,
"ওই যে চাদটা দেখছো না? তার পাশের তারাটাই আমাদের বাচ্চা টা"
মনটা যেন আরো ভারী হয়ে যায় ঝুমের। ভারি মনটা আর ধরে রাখতে না পেরে জীতের বুকে এলিয়ে দেয়। 
আর জীত ঝুমের কপালে চুমু দিয়ে বলে, "ভালোবাসি,ভালোবাসি, ভালোবাসি" কী অদ্ভুত এই ভালবাসা তাই না।
 

মায়ের তুলনা হয়না

একমাত্র মায়ের ভালোবাসা স্বার্থহীন।
বাকি সবেতেই স্বার্থ।
 তাই ভালোবাসার কথা আসলেই মায়ের কথা বলতেই হয়।
যে মেয়েটার বিছানায় গড়াগড়ি করে কিংবা হাত পা ছুঁড়ে ঘুমানোর অভ্যাস এক সময় সেই মেয়ে এক কাত হয়ে সারারাত পার করে দেয় কারণ সে জানে তার পাশে শুয়ে আছে ছোট্ট একটা বাবু। 
এখন কিছুতেই হাত-পা ছোড়া চলবে না।
যে একটা সময় লাল পিঁপড়ার কামড় খেয়ে চেঁচিয়ে বাড়ি মাথায় তুলত, আজ তার ভেতরে বেড়ে উঠা ছোট্ট প্রাণটা
সারাদিন হাত পা ছোড়াছোড়ি করে, প্রতিটা লাথি বেশ জোরেই আঘাত করে তবু মা দাঁতে ঠোট চেপে সব সহ্য করে, হয়ত দু ফোঁটা জলও গড়িয়ে পড়ে।
সে জল যতটা কষ্টের তার থেকে অনেক বেশি আনন্দের কারণ সে অনুভব করে তার বাবুটার জীবন্ত প্রাণের স্পন্দন।
একদিন নাড়াচাড়া না করলে অজানা আশংকায় বুক কেঁপে ওঠে "সবকিছু ঠিক আছে তো??"
একদিন হঠাৎ তীব্র যন্ত্রণা।
জানান দেয় তার সন্তানের পৃথিবীতে আগমন এর সময় হয়েছে। 
বোধ হয় পেটের ভিতরে কেউ কিছু টেনে ছিঁড়ে ফেলছে। 
কুড়িটি হাড় একসাথে ভেঙে দেওয়ার সমান কষ্ট নারীজাতি সেদিনই অনুভব করতে পারে। 
এত কষ্টের পর সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে মায়ের ক্লান্ত বিধ্বস্ত চেহারা খানি এদিক ওদিক খোঁজে ফেরে একজনকে, মৃদু করে বলে "আমার বাবু কোথায় ?"
ছোট্ট একটা রক্ত মাখা শরীর তুলে দেওয়া হয় তার কোলে। 
টপটপ করে নোনা জল গড়িয়ে পড়ে সে দেহে।
তার বুকে মাথা রেখে মা বাবুটার হৃদস্পন্দন শোনে। 
আচ্ছা এটা কেন বলে না "তুই আমায় খুব দিয়েছিস। তোকে আমার লাগবে না।
"মা জানে তার এই ছোট্ট বাবুটা ছাড়া তার একদম চলবে না। 
বাবুটা মায়ের বুকের উষ্ণতায় চুপটি শুয়ে থাকে মায়ের নির্ঘুম চোখ তাকে সারারাত পাহারা দেয়। 
ফিসফিস করে বাবুটাকে শোনায় "তুই ভাল থাকলেই আমি ভাল থাকব।
"তুমি কি করে পার মা?
তবুও কেন আমরা তোমার মর্যাদা দিতে পারি না..??
কেন শেষ বয়সে তোমার ঠিকানা হয় ওই বৃদ্ধাশ্রম!
 

যুক্তি দিয়ে ভালোবাসা বিচার করুন

বলতে গেলে এটাকেও একটা মজার গল্প বলা যেতেই পারে।
কিন্তু একটু বুঝেই দেখুন, আসলে কথাটা খারাপ না।
ও হো আপনি তো এখনও গল্পোটাই জানেন না, আগে পড়ে ফেলুন তাড়াতাড়ি।
ট্রেনে এক অর্থনীতিবিদের পাশে বসে ছিল এক যুবক।
যুবকের চেহারায় ছিল দুশ্চিন্তার ছাপ। 
কিছুক্ষণের মধ্যে তাদের দুইজনের পরিচয় হল। 
কথা-বার্তার এক পর্যায়ে যুবকটি অর্থনীতিবিদকে বলল...,

যুবকঃ আমি ৬ বছর আগে বিয়ে করেছি। আমার স্ত্রী আমাকে খুব ভালোবাসে। আমার ৫ বছরের একটি মেয়েও আছে। কর্মক্ষেত্রেও আমি যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করেছি। কিন্তু ১ বছর আগে একটি সুন্দরী মেয়ের সাথে আমার পরিচয় হয় এবং আমরা একে-অপরের প্রেমে পড়ে যাই।

অর্থনীতিবিদঃ এখন আপনি কি করবেন?

যুবকঃ আমি আমার স্ত্রীকে ছেড়ে দিতে চাই। তবে, এখনো ফাইনাল ডিসিশন নিতে পারি নি। ভীষণ দুশ্চিন্তায় আছি। কি করা যায়, বলুনতো? 

অর্থনীতিবিদঃ হুম..., এই দুটোর মধ্যে একটি বাছাই করা সত্যিই খুব কঠিন কাজ। কিন্তু অর্থনীতির হিসাব দিয়ে বিশ্লেষণ করলে আপনার সমস্যার সমাধান করা যায়!! 
ধরুন, আপনি আপনার বসের কঠিন কোন সমস্যার সমাধান করে দিলেন।
এখন তিনি আপনাকে পুরষ্কার দিতে চান।
তিনি আপনাকে দুটো পুরষ্কারের থেকে একটি বেছে নিতে বললেন।
আপনাকে নগদ ৫ লাখ টাকা দেয়া হবে। অথবা, ২ বছর পর ৭ লাখ টাকা দেয়া হবে। তখন আপনি কোনটি নেবেন?

যুবকঃ অবশ্যই নগদ ৫ লাখ টাকাই নেবো।

অর্থনীতিবিদঃ কেন? 

যুবকঃ কে জানে ২ বছর পর কী ঘটবে? ২ বছর পর আমি টাকাটা পাবোই এমন তো কোন নিশ্চয়তা নেই। 
কিন্তু ৫ লাখ টাকা তো আমাকে এখনই দেওয়া হবে। 

অর্থনীতিবিদঃ (হেসে বলল) আপনি একদম ঠিক বলেছেন। 
একইভাবে, ভবিষ্যতে ঐ সুন্দরী আপনাকে এখনকার মতই ভালোবাসবে, এমন তো কোন নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু আপনি তো এটা নিশ্চিত যে, আপনার স্ত্রী আপনাকে কতোটা ভালোবাসে..., যুবকটি তার ভুল বুঝতে পেরে প্রচন্ড আবেগে অর্থনীতিবিদকে জড়িয়ে ধরল এবং কেঁদে ফেলল...।