Wednesday, May 25, 2016

সবার কপালে ভালোবাসা সয় না

-'এই তন্নি মেয়েটা কে?' ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে আসলো রাগত মেয়েলি কন্ঠ!
-তন্নি! কোন তন্নি? হিমু পাল্টা প্রশ্ন করলো।
-আহারে! ন্যাকা চেন না? তোমার পিক-এ যে কিউট লিখে কমেন্ট করলো সেই তন্নি!!
-ও, সে তো আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড।
-তা তোমার পিকে কমেন্ট করলো কেন?
-সেটা আমি কিকরে জানব!
-আমি কিচ্ছু শুনতে চাই না! তোমার আইডিতে কোনো মেয়ে ফ্রেন্ড রাখা চলবে না। তোমার ফেসবুকের পাসওর্য়াড দাও এখুনি।
অগত্যা হিমু তার পাওয়ার্ড নীলা কে দিয়ে দিল। নীলার সাথে হিমুর সম্পর্ক বহুদিনের। নীলা ভীষন জেদি মেয়ে। অল্পতেই অভিমান করে বসে।
একদিন তারা দুজন রাস্তার পাসে বসে ছিলো। একটা মেয়ে তাদের পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছিলো। হিমু জাস্ট একবার মেয়েটার দিকে তাকিয়েছিলো।
ব্যস! তারপর আর কি, রাগ করে দুদিন হিমুর সাথে কথা বলে নি! হিমু বহু কষ্টে তার রাগ ভাঙাতে সহ্মম হয়।
নীলা কে বাগে আনতেও কিন্তু কম কষ্ট হয়নি হিমুর। দিনের পর দিন ওর পিছনে ঘুরেছে, ওর বারান্দার নিচে দাড়িয়েছে।
কিন্তু মুখ ফুটে ভালোবাসার কথা বলতে পারে নি।
গত ভ্যালেন্টাইন্স এর দিন অনেক সাহস সঞ্চয় করে নীলা কে প্রপোজ করে হিমু।
নীলাও ওকে ফিরিয়ে দেয় নি। শহরের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে তারা ঘুরতে জায়নি। এমন কোনো দিন নেই দুজনে দেখা করেনি।
ক্যাম্পাসে সবাই ওদের এক নামে চেনে।
একদিন তারা দুজন ক্লাস ফাকি দিয়ে ঘুরতে গিয়েছিল।
কথায় আছে যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয়।
সামনে গিয়ে পড়লো তাদের ক্লাস টিচারের!
স্যার গম্ভীর মুখে তাদের দিকে এগিয়ে আসে। তারপর ফিক করে হেসে দেয়। ওরা ভেবছিলো স্যার তাদের অনেক বকাঝকা করবে।
কিন্তু তিনি উল্টো উৎসাহ দিলেন। তার ভাষায় 'পেয়ার কিয়া তো ডারনা ক্যায়া?'
এখন বাজে রাত ১১:৫০।
এত রাতে হিমু অতীতের স্মৃতি হাতড়ে বেড়াচ্ছে।
এই ঘটনাগুলো ঘটেছিলো আজ থেকে ৫ বছর আগে।
নীলাকে হিমু জীবন সঙ্গী হিসেবে পায়নি। তার আগেই বিধাতা তাকে কেড়ে নিয়েছে।
এক নির্মম রোড এক্সিডেন্টে চির জীবনের জন্য তাকে হারিয়েছে হিমু।
পৃথিবীতে হয়তো সব প্রেমিক যুগলের মিলন হয় না। কারো কারো মিলন হয় পৃথীবি থেকে বহু দুরের এক জগতে........
 

পাগলী মেয়েটা

আকাশটা আজ সকাল থেকেই বড্ড বেঁকে বসেছে। 
একরকম পালা কীর্ত্তণের মতই কম বেশি বৃষ্টি হয়েই চলেছে। দুপুরই হবে বোধয়। এই মফস্মল শহরের প্লাটফর্মে লোকজন প্রায় নেই বললেই চলে।
বেশ শুনশান মতই। শুধু বৃষ্টির জলের অবিরত শব্দ ছাড়া আর শোনবার মত কিছু নেই এখানে।
কিন্তু ওয়েটিং শেডের কোনের দিকটার ঘটনাটি একটু অন্যরকম। 
দূর থেকে কেউ দেখলে বুঝতে পারবে না সেখানে কি ঘটে চলেছে। 
ওয়েটিং শেডের নীচেই একটা বছর ২৪ কি ২৫ এর ছেলেকে দেখা যায়। 
সে উন্মাদের মত দিশেহারা হয়ে কি যেন খুঁজে চলেছে। তন্য তন্য করে কিসের যেন সন্ধান করছে।
"হ্যালো....আপনি কি কিছু খুঁজছেন ওখানে?" প্রশ্নটি শুনে ছেলেটির হুঁশ ফেরে।
সে পেছনে ফিরে চাইতেই দেখল কলেজ স্টুডেন্ট টাইপের একটা মেয়ে অদূরেই দাঁড়িয়ে তার দিকে চেয়ে আছে।
"বলছি আপনি কি কিছু খুঁজছেন? অনেকক্ষন থেকেই আপনাকে দেখছি..., কিছু হারিয়েছে কি আপনার?" মেয়েটি আবার বলল।
ছেলেটি ভগ্ন স্বরে একরাশ উত্তেজনা নিয়েই বলল,"আজ এখানে একটা সবুজ প্যাকেটে আমি আমার অ্যাডমিট কার্ড আর ইন্টারভিউ লেটার শুদ্ধু একটা ফাইল ভুল করে ফেলে গেছি। আমার সব শেষ হয়ে গেল..., কালই আমার ইন্টারভিউ...।"
ছেলেটি ভেঙে পড়ল হতাশায়, মাথা হেঁট করে বসে পড়ল নিচে। কতক্ষন যে এরকম বসেছিল সে জানেনা। 
সহসা মেয়েটির কন্ঠস্বরে তার স্নায়ুগুলি সজাগ হয়ে ওঠে, লাফিয়ে উঠে পড়ে সে।
"আবির গোস্বামী..., এল.এল.এম. ফ্রম ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি..., পাসড ডব্লিউ বি সি এস মেইন এক্সাম...।
"মেয়েটি মুখে চটুল হাসি নিয়ে একটি ফাইল খুলে পড়তে থাকে। 
এইতো তার ফাইল! সে এক ছুটে মেয়েটির কাছে চলে যায়। 
হারাধন পাওয়ার আনন্দে তার সর্বশরীর উত্তেজনায় কাঁপতে থাকে। চোখে জল চলে আসে তার।
মেয়েটি ফাইলের ডকুমেন্ট পড়া বন্ধ দিয়ে ছেলেটির দিকে তাকাল।
খিলখিল করে একরেশ হেসে নিয়ে বলল, "জানতাম, কোনো এক বেখেয়ালী পাগল এটার জন্য দিকবিক জ্ঞানশূন্য হয়ে আসবেই, তাই পড়ে রইলাম এখানে।"
ছেলেটি তার অন্তরের সর্বশক্তি দিয়ে মেয়েটিকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানালে মেয়েটি বলল "ব্যাস দ্বায়িত্ব সেরে ফেললেন? আমি এতক্ষন এখানে বসে রইলাম শুধু ধন্যবাদের জন্য বুঝি?
একঝাঁক উস্কো খুস্কো চুলের দোকান মাথায় নিয়ে ছেলেটি জিজ্ঞাসুভাবে চেয়ে রইল তার দিকে।
মেয়েটি চোখ টেরিয়ে বলল, "ট্রিট দিতে হবে। এই বৃষ্টিতে আপনার ধন্যবাদ নিয়ে করব'টা কি শুনি?"
ছেলেটি লজ্জিত হয়ে বলল, "কি ট্রিট চান বলুন প্লিজ...আমি দেব।"
"থাক এখন ট্রিট দিতে হবেনা। আগে এক্সাম পাশ করুন, জব পান তারপর নাহয় ট্রিট দেবেন!"
ছেলেটি কি যেন একটা তালগোলের মধ্যে পড়ল। 
খানিক ভেবেই উতকন্ঠিত হয়ে বলে, "বুঝলাম, কিন্তু আপনাকে পাব কোথায়?"
প্লাটফর্মে ট্রেন ঢুকে পড়েছে। 
মেয়েটি তড়িঘড়ি করে ছাতা মাথায় দিয়ে ট্রেনটির দিকে এগিয়ে যায়; তারপর পিছনে ফিরে চায়। খিলখিল করা হাসির ফোয়ারা তুলে ছেলেটিকে বলল, "আবার কিছু হারিয়ে ফেলবেন যখন, আমাকে পেয়ে যাবেন।"
ট্রেন ছেড়ে দেয়, ঘটনাটি কি যে ঘটে গেল ছেলেটি বুঝে উঠতে পারল না। একহাতে ফাইলটি নিয়ে উদাসীনভাবে চলন্ত ট্রেনটির দিকে চেয়ে থাকে।
কে এই মেয়েটা? 
নিশ্চই ভগবান তার দূত পাঠিয়ে দিয়েছিলেন তার মত পাগলকে উদ্ধার করতে।
ফাইলটা হাতে নাড়াচাড়া করতে গিয়েই হাত থেকে উল্টে পড়ে যায়। ছেলেটি যখন নিচু হয়ে ফাইলটি তুলতে গেল, যে জিনিসটা তার চোখে পড়ল সেটি তার কল্পনাতেও ছিল না!
একটু ভালো করে দেখলে দেখা যাবে, ফাইলের উল্টো দিকে মুক্তোর মত অক্ষরে একটা লেখা, " এরকম বেখেয়ালী আর হবেন না।তখন ট্রেন ছেড়ে দিয়ে আবার আপনার জন্য সারাবেলা প্লাটফর্মে অপেক্ষা করতে পারব না কিন্তু। ইন্টারভিউতে ফল ভাল হোক, শুভেচ্ছা রইল।"
লেখার শেষে দশটা ডিজিটের একটা নাম্বার দেখা গেল, হ্যাঁ মোবাইল নাম্বার।
ছেলেটি আশ্চর্য তো হলই কিন্তু এতক্ষন কি যেন একটা জিনিস তার কাছ থেকে হারিয়ে গেল এই চিন্তা তার চেতনায় ঘুরপাক খাচ্ছিল তাকে আবার ফিরে পেল।
দূর হতে দূরে চলে যাওয়া ট্রেনটির দিকে সে একবার চাইল। 
বাদলা হাওয়ার শীতলতায় একবার নিজেকে জুড়িয়ে নিল।মনের গভীর হতে ঠোঁটের কোনে একচিলতে হাসি নিয়ে আনমনে বলে উঠল, "পাগলি মেয়েটা।"

Tuesday, May 17, 2016

বড্ড ভালোলাগে তোমার বকুনি

ছেলে - জ্বর কমেছে?
মেয়ে - হ্যা কমে তো গেছিল কিন্তু কাল রাতে আবার আইসক্রিম খেয়েছিলাম তাই আবার বেড়েছে।
ছেলে - কি! তুমি পাগলি নাকি? আচ্ছা তুমি এমন কেন করলে? এত বেখেয়ালি? এখন মনে হচ্ছে তোমার গালে একটা চড় মারি। তুমি না লেখাপড়া কর? তারপরও কেন অশিক্ষিতর মত কাজ কর? আমার অবাক লাগছে তোমার মতো একটা স্টুপিডের সাথে আমি প্রেম করি।
এই মেয়ে নিজেকে কি মনে কর তুমি? তোমার ইচ্ছে মত সব হবে? তোমার লাইফ তোমার একার না? তাহলে আমার সাথে কেন প্রেম করো? কেন আইসক্রিম খেয়েছিলে? আমাকে উওর দাও?
মেয়ে - হাহাহাহাহা.... তুমি না! সত্যি বলছি আমি আইসক্রিম খাইনি। তোমার কাছথেকে বকা খাওয়ার জন্য মিথ্যে বলেছি, সরি জান।
তুমি যখন আমাকে এইভাবে বকা দাও তখন তোমার চোখে এই রাগের মাঝে আমি ভালোবাসা দেখতে পাই। তখন নিজেকে পৃথিবীর সব থেকে সুখি মেয়ে মনে হয়।
ছেলে - তুমি একটা ইডিয়ট, একটা স্টুপিড, একটা পাগলি। আর আমার জান, আমার ভালোবাসা।
মেয়ে - তাহলে চলো আমরা আইসক্রিম খাই।
ছেলে -  কি? এই জ্বরের মধ্যে...! তুমি সত্যিই একটা পাগলি! 
একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে বলল, তবুও আমি তোমাকে ভালোবাসি।

এত শিতেও ভালোবাসা

আবহাওয়া সংবাদে তো বলে শীত নেই!
কিন্তু আমার কিন্তু খুব শীত লাগছে, এখনও...
তবে আজ আপনাদের জন্য একটা সুন্দর ভাললাগা, ভালোবাসার গল্প নিয়ে এসেছি।
মেয়েটা ঘুমিয়ে যায়। পাশেই ছেলেটা জেগে থাকে। 
ঘুমজড়ানো চোখ খুলে মেয়েটা বলে "এই তুমি ঘুমোবে না? আসো ঘুমিয়ে পড়ো।"
ছেলেটা হাসে, বলে - তুমি ঘুমোও, আমি আরেকটু পর ঘুমোবো।.
মেয়েটা চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়ে। 
কনকনে শীত, ভারী কম্বল গায়ে দিয়ে শুয়ে থাকায় চট করে ঘুমিয়ে যায় মেয়েটা।
ছেলেটা পাশ ফিরে তাকায়। 
ডান হাত বের করে নেয় কম্বলের ভেতর থেকে। অবাক চোখে ঘুমন্ত নিষ্পাপ চেহারাটার দিকে অপলক তাকিয়ে থাকে। কী অদ্ভুত এক মায়া চেহারাটার মাঝে। বন্ধ করা চোখের পাতা মাঝে মাঝে কেঁপে উঠে, ছেলেটা দেখতেই থাকে। কপাল ছুঁয়ে আছে একমুঠো চুল। ছেলেটার ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে হয়। 
মেয়েটা জেগে যাবে বলে ছোঁয় না।.
কনকনে শীতে ছেলেটার হাত ঠান্ডা হয়ে আছে। ছেলেটা ঠান্ডা হাত মেয়েটার গালে ঠেকিয়ে মজা পায়। তার একটু ছুঁতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু ছোঁয় না, মেয়েটা জেগে যাবে বলে।
ছেলেটা অপলক দৃষ্টিতে শুধু তাকিয়েই থাকে। 
হঠাৎ বন্ধ চোখের পাতা একটু কেঁপে উঠে। 
চোখের পাতা সরে ছোট্ট দুটো চোখ উঁকি দেয়। 
ঘুমজড়ানো কন্ঠে ভ্রুনাচিয়ে জিজ্ঞেস করে "কী দেখছ?"
ছেলেটা বলে, কিছু না। আমার হাত অনেক ঠান্ডা।
মেয়েটা চোখ বুঁজে মুচকি হেসে ছেলেটার হাত বালিশের উপর নেয়। সেই হাতের উপর তার গাল রেখে চুপচাপ শুয়ে থাকে। 
ঠান্ডা হাত লাগায় একধরনের শিউরে ওঠা ভাব থাকে, মেয়েটার তারপরও ভালো লাগে। এ যে এমন একজনের হাত, যে একজন তার। 
ছেলেটা আবার তাকিয়ে থাকে। মেয়েটা আবার চোখ খোলে। 
পিটপিট করে তাকিয়ে বলে, এই শুনছ? 
হুমম বলো।
তোমার হাত অনেক ঠান্ডা। সরিয়ে নাও।
আচ্ছা।.ছেলেটা হাত সরিয়ে নেয়। 
অল্প অল্প মন খারাপের রেখা ভাসে গালে-কপালে। 
মেয়েটা চোখ বুঁজে আছে, তাই দেখতে পাইনা তবে বুঝতে পারে। 
মেয়েটা আবার চোখ খোলে, পিটপিট করে তাকায়। বলে, এই শুনছ? 
হ্যাঁ বলো।  
বালিশটাও না খুব ঠান্ডা। 
এখন কী করি? বালিশ সরিয়ে নেব? 
উহুঁ। 
তাহলে? 
তোমার বুকে মাথা রাখি? মেয়েটা উত্তরের অপেক্ষা করেনা।
চুপচাপ মাথা রাখে ছেলেটার বুকে। বুকেরগহীন থেকে গর্জন আসে। গর্জন আসে ভালোবাসার,গর্জন আসে অনেক কিছু পাওয়ার,গর্জন আসে সুখের। 
চোখবুঁজে মেয়েটা সে সুখ মেখে নেয়। এ বুক তার, শুধুই তার। এই ছেলেটা তার স্বামী, শুধুই তার।.
ছেলেটা হাসে। অনেক পাওয়ার হাসি। আলতো করে মেয়েটার চুলে হাত রাখে। ঠান্ডা হাত।

দাদ বৌদি

আজ আমাদের হবু বৌদি আর দাদার মধ্যে কথা হচ্ছে।
আসুন শোনা যাক কথা-বার্তার কিছু অংশ।
 
বৌদি - তুমি বিয়ের সময় আমার বাবার কাছ থেকে কি কি যৌতুক চাইবে?
দাদ - বেশি কিছু না, বাথরুম বানানোর জন্য ১ লাখ টাকা!

বউদি- কি!! বাথরুম বানানোর জন্য !!?
দাদ - হ্যাঁ, বিয়ের পর যখন ঝগড়া করবে, তখন তুমি বলবে 'আমার বাবা
বিয়েতে ১ লাখ টাকা দিয়েছে, ভুলে গেছ নাকি? 
আর তখন আমি বাথরুমে গিয়ে বলব,
তোমার বাবার টাকায় আমি মুতি।
 

Tuesday, May 3, 2016

সাথে ছিলাম, আছি, থাকব...

একটি ছেলে তিন বছর সম্পর্কের পর মেয়েটাকে বলছে...
ছেলেঃ আমার মনে হচ্ছে আমি তোমাকে ভালোবাসি না।
মেয়েঃ কি??
ছেলেঃ হ্যা, আমি আমার জীবনকে তোমার সাথে থেকে নষ্ট করতে পারবো না।
মেয়েঃ তুমি এসব কি বলছ?? এই রকম কোরোনা আমার সাথে। প্লিজ... আমার ভুলটা কোথায়? প্লিজ বল...
ছেলেঃ আমি ব্রেক আপ চাচ্ছি।
মেয়েঃ আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না জান, প্লিজ আমাকে একা ফেলে যেওনা...
ছেলেঃ কিন্তু আমার ব্রেক আপ চাই। এটা বলে ছেলেটা চলে গেল। মেয়েটি রাতে অনেক কান্নাকাটি করল। সে বুঝে উঠতে পারছেলিনা যে সে কি হারিয়েছে।
এই রকম কিছু দিন যাওয়ার পরও ছেলেটি মেয়েটির সাথে যোগাযোগ করলনা।
তখন মেয়েটি নিজেকে অনেক শক্ত করল। এবং সে তার বাব-মা কে তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্যে পাত্র দেখতে বলল। সে অন্য একটি ছেলে কে বিয়ে করল। সে সবসময় ভাল থাকার চেষ্টা করত কিন্তু পারত না। এমনকি তার বিয়ের পরও প্রত্যেক রাতে সে কাঁদত সেই ছেলেটির জন্যে যে তাকে অন্ধকারে একা রেখে চলে গেছে।
সে এখনো বিশ্বাস করে তার সেই মানুষটি তার কাছে আসবে, এবং তাকে নিয়ে একসাথে থাকবে কিন্তু তা আর হল না।
বিয়ের ২ বছর পর মেয়েটি ছেলেটির বাড়িতে গেল তার বোনের সাথে দেখা করতে।
তার বোন তাকে ছেলেটির রুমে নিয়ে গেল এবং তার হাতে একটি চিঠি দিল এবং কাঁদতে কাঁদতে বলল, যে তার দাদ ২ বছর আগে মারা গেছে।
মেয়েটি বাড়িতে গেল ,তারপর চিঠিটি খুলে পড়তে লাগলো "সোনা আমি জানি তুমি এখনো আমার জন্যে অপেক্ষা করছ, কিন্তু সেটা হয়ত আমাদের নিয়তিতে ছিল না।
তুমি মন খারাপ করো না, আমি এই কাজ করেছি শুধু তোমাকে শক্ত করার জন্যে, তোমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্যে। ডাক্তার স্পষ্ট করে বলেই দিয়েছিল আমার বাঁচার কোন পথ নেই।
কখনো নিজেকে দোষারোপ কোরো না কোন কিছুর জন্যে।
তবে আমি তো এখনো বেচে আছি তোমার হৃদয়ের মাঝে। আছি না? এবং তোমার ভালবাসা কখনো হারাবে না।
আশা ছেড়ো না, সবসময় হাসি খুশি থাকবে, তুমি জানো আমি তোমার হাসি মুখটা দেখতে অনেক ভালোবাসি।
আমি সব সময় তোমার সাথে ছিলাম, আছি , থাকব।