Thursday, April 21, 2016

ভালোবাসার আর একটা আধুরি কাহানী

"পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি। ইনি হলেন রুদ্র শেখর, আমার অফিসের বস। আর স্যার, ও হলো মহুয়া, আমার স্ত্রী।"
আমি মিষ্টি করে হাসলাম মহুয়ার দিকে তাকিয়ে।
কিন্তু মহুয়ার চোখে বিস্ময়ের ঢল পড়েছে। "রুদ্র তুমি? এত্ত দিন পর? তুমি আবীরের বস? অথচ অথচ...."
অথচ আমি তার প্রাক্তন প্রেমিক, এ কথাগুলো মহুয়ার মুখ দিয়ে বেরোল না।
আবীর সাহেবও বেশ অবাক হয়েছেন বলে মনে হলো। বললেন, "মহুয়া, তোমরা আগে থেকে পরিচিত?"
মহুয়া কিছু বলার আগেই, আমি দ্রুত বললাম-"হ্যা আবীর সাহেব, মহুয়া আমার ইউনিভার্সিটির ফ্রেন্ড।"
আবীর সাহেব মুক্তাঝরা হাসি দিলেন-"রিয়েলি? দ্যাট'স আ গ্রেট সারপ্রাইজ!"
মহুয়া এখনো ভীষণ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। ওর চিন্তা আমি স্পষ্ট ধরতে পারছি। আমি একসময় বইয়ের মতো পড়তে পারতাম এই মেয়েটাকে।
মহুয়া নিশ্চয়ই ভাবছে, চার বছর আগে যে ছেলেটার সাথে দীর্ঘদিনের ভালবাসার সম্পর্ক কোন কারণ ছাড়াই এক লহমায় চুকিয়ে দিয়েছে, কাউকে না জানিয়েই বাবার পছন্দে আমেরিকা ফেরত ছেলের সাথে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছে, সেই ছেলে এত দ্রুত শক কাটিয়ে এত ভাল একটা পজিশনে স্টাবলিশড হলো কি করে?
কি ভাবছ মহুয়া? (আবীর সাহেব তার এক কলিগের সাথে গল্প করছেন, এদিকে খেয়াল নেই। এই ফাঁকে প্রশ্নটা করলাম মহুয়াকে।)
কিছু ভাবছি না, তুমি ভালো আছো?
কিছু তো একটা ভাবছই!
আমি...আমি আসলে অবাক হচ্ছি তোমাকে দেখে। আমি ভাবতাম খুবই দুর্বল মনের ছেলে তুমি। আমি তোমাকে না জানিয়ে অন্য একটা ছেলেকে বিয়ে করেছি, এই ধাক্কাটা এত দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারবে বলে ধারণা ছিল না আমার।
সবসময়ে এক ধরনের অপরাধবোধে ভুগতাম তোমার কথা ভেবে। অথচ তুমি দিব্যি সুখেই আছো!
আমি মৃদু হেসে বললাম, "দেখলে তো তোমার ধারণা ভুল। আসলে তোমার যেদিন বিয়ে হলো, সেদিনই আমি স্কলারশিপ নিয়ে ডেনমার্কে পাড়ি জমাই। দু'বছর পর পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরি। তারপর ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের কাজটা জুটিয়ে ফেলি তোমার হ্যাজব্যান্ডের অফিসে। অবশ্য আবীর যে তোমার বর সেটা আগে জানতাম না!"
মহুয়া স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল- "যাক, তুমি বাঁচালে আমায়। আমি তো সবসময় তোমার কথা ভেবে ভেবে দুঃশ্চিন্তায় ভুগতাম।"
আমি আস্বস্তের হাসি হাসলাম।
দু'ঘন্টা পর। অফিস পার্টি শেষ। আবীর আর মহুয়া হাত ধরাধরি করে গাড়িতে গিয়ে উঠল। মহুয়াকে উঠিয়ে দিয়ে আবীর হেটে এল আমার দিকে।
নিচু স্বরে বলল- "ধন্যবাদ রুদ্র। সত্যি, তোমার অভিনয়ের প্রশংসা করতে হয়। এই অভিনয়টুকু না করলে মহুয়া কখনো সুখী হতো না।"
আমি আমার সেই আস্বস্তিকরণ হাসিটা দিলাম আবার।
আবীর-মহুয়াদের গাডিটা চলে গেল দূরে, অনেক দূরে......!
ওরা চলে যেতেই আমার বুকটা হাহাকার করে উঠল, চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা হলো- "আমি মিথ্যে বলেছি মহুয়া। আমি অফিসের বস নই! আমি টিউশনী করি, পুরনো ঘিঞ্জি মেসে থাকা অকর্মা-বেকার যুবক। যেদিন তোমার বিয়ে হলো, সেদিন আমি ডেনমার্ক যাইনি। আমি সারারাত ছাদে বসে থেকেছি, আর তোমার কথা ভেবেছি।
তোমার ধারণা ঠিক, আমি মানসিক ভাবে আসলেই দুর্বল। আমি ভালো নেই মহুয়া, আমি ভালো নেই!"

ভালোবাসার মানুষের সাথে বিয়ে হবেনা

প্রেমিকা জিজ্ঞেস করলো, আচ্ছা অন্য কারো সাথে আমার বিয়ে হয়ে গেলে কি করবে তুমি?
ভুলে যাবো, ছেলেটা উত্তর দিলো।
ছেলেটার উত্তর শুনে মেয়েটি রাগে অন্যদিকে মুখ ঘোরালো।
ছেলেটি আবার বলল, তুমিও আমাকে ভুলে যাবে, সবচেয়ে বড় কথা, আমি যত দ্রুত তোমাকে ভুলে যাবো, তার চেয়েও বেশি দ্রুত তুমি আমাকে ভুলে যাবে।
কি রকম? প্রেমিকা প্রশ্ন করলো।
ছেলেটি বলতে শুরু করল, "মনে করো বিয়ের প্রথম তিনদিন তুমি এক ধরনের ঘোরের মধ্যে থাকবে। শরীরে গয়নার ভার, মুখে মেকআপ এর প্রলেপ, চারিদিক থেকে ক্যামেরার ফ্লাশ, মানুষের ভিড়, তুমি চাইলেও তখন আমার কথা মনে করতে পারবে না।
'আর আমি তখন তোমার বিয়ের খবর পেয়ে হয়ত কোন বন্ধুর সাথে উল্টাপাল্টা কিছু খেয়ে পড়ে থাকবো। আর তার কিছু পর তোমাকে হৃদয়হীনা বলে গালিদেব, আবার পরক্ষনেই পুরাতন স্মৃতির কথা মনে করে বন্ধুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদবো।
বিয়ের পরের দিন তোমার আরো ব্যস্ত সময় কাটবে। আর প্রথম সপ্তাহে, স্বামী আর মিস্টির প্যাকেট এই দুটো হাতে নিয়ে তুমি বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাড়ি ঘুরে বেড়াবে। আমার কথা তখন তোমার হঠাত হঠাত মনে হবে। এই যেমন স্বামীর হাত ধরার সময়, এক সাথে গাড়িতে চড়ার সময়।
আর আমি তখন ছন্নছাড়া হয়ে ঘুরে বেড়াব, আর বন্ধুদের বলব বুঝলি ভাই, জীবনে প্রেম ভালোবাসা কিছুই না, সব মিথ্যে।
পরের একমাসে তুমি হানিমুনে যাবে, নতুন বাড়ি পাবে, শপিং, ম্যাচিং, শত প্লান, আর স্বামীর সাথে হালকা মিষ্টি ঝগড়া। তখন তুমি বিরাট সুখে, হঠাত আমার কথা মনে হলে ভাববে, আমার সাথে বিয়ে না হয়ে বোধহয় ভালই হয়েছে।
আমি ততদিনে বাবা, মা, বন্ধু কিংবা বাড়ির বড়দের বকা খেয়ে মোটামুটি সোজা হয়ে গিয়েছি। ঠিক করেছি কিছু একটা কাজ পেতে হবে, তোমার চেয়ে একটা সুন্দরী মেয়ে বিয়ে করে তোমাকে দেখিয়ে দিতে হবে।
সবাইকে বলব, তোমাকে ভুলে গেছি।

কিন্তু তখনও মাঝরাতে তোমার এসএমএস গুলো বেরকরে পড়বো আর দীর্ঘশ্বাস ছাড়ব। 
দুই বছর পর তুমি আর কোন প্রেমিকা কিংবা নতুন বউ নেই। মা হয়ে গিয়েছো, পুরাতন প্রেমিকের স্মৃতি, স্বামীর আহ্লাদ-ভালোবাসা, এসবের চেয়েও বাচ্চার ডায়াপার, হামের টীকা এসব নিয়ে বেশি চিন্তিত অর্থাত তখন আমি তোমার জীবন থেকে মোটামুটি পারমানেন্টলি ডিলিট হয়ে যাবো।
এদিকে ততোদিনে আমিও একটা কাজ পেয়েছি, বিয়ের কথা চলছে। মেয়েও পছন্দ হয়েছে। আমি এখন ভীষণ ব্যাস্ত। এবার সত্যিই আমি তোমাকে ভুলে গিয়েছি। 
শুধু রাস্তা ঘাটে কোন প্রেমিক-প্রেমিকা দেখলে তোমার কথা মনে পড়বে। কিন্তু তখন আর দীর্ঘশ্বাসও আসেবে না....।
এতদূর পর্যন্ত বলার পর ছেলেটি দেখল তার প্রেমিকা ছলছল চোখ নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। মুখে কোন কথা নেই। ছেলেটি ও চুপচাপ।
একটু পর প্রেমিকা বললো - "তবে কি সেখানেই সব শেষ?"
ছেলেটি বলল - না।
কোন এক মন খারাপের রাতে তোমার স্বামী নাক ডেকে ঘুমুবে, আর আমার বউও ব্যস্ত থাকবে নিজের ঘুমরাজ্যে। 
শুধু তোমার আর আমার চোখে ঘুম থাকবেনা, সেদিন অতীত আমাদের দুজনকে নিঃশ্বদে কাঁদাবে। 
ভগবান ব্যাতীত যে কান্নার কথা কেউ জানবে না, কেউ না...।
মেয়েটি ছেলেটিকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগল...

ছলনাময়ী মেয়ে

রাত ৪টে পর্যন্ত তোমার নাম্বারটা ডায়াল করেছি। বন্ধ ছিলো। 
পরশু দিনের পাঠানো মেসেজটা এখনো delivery হয়নি। একটু পর পর মেসেজটা চেক করি। 
আমি জানি অন্য মেসেজগুলোর মতো এই মেসেজটাও Failed হয়ে যাবে। আজ তিন মাস তোমার নাম্বারটা বন্ধ। আমার সাথে কথা না বলে তোমার রাতে ঘুম আসতো না। সারাদিন আমার খোজ না নিলে তোমার অস্বস্তি লাগতো। হাজারবার ভালবাসি না বললে তোমার মন ভালো হতোনা। 
এখন এসব কিছুই তোমাকে স্পর্শ করেনা। জানি অার করবেও না। 
তোমার জগতের হাজারটা আমি তোমাকে ঘিরে রেখেছে। 
আর আমার জগতের একমাত্র আমি সেই তুমি এখন যোজন দুরে। 
এটুকু জানি যে বাচতে কষ্ট হবে তোমাকে ছাড়া। প্রচন্ড কষ্ট...! প্রচন্ড...! 
আর এটাও মানি যে বাঁচতে হবেই, তোমাকে ছাড়াই।
আমাদের ভালোবাসার গল্পটা তোমার নিজের হাতে লেখা। একটি নাটকের মতোই প্রতিটা দৃশ্য তোমার নিজের হাতে সাজানো। তাই খুব সুন্দর একটা সমাপ্তি দিয়ে নিজেকে আড়ালে করতে কষ্ট হয়নি তোমার। 
আর আমি ব্যর্থ অভিনেতার মতো এখনও দাড়িয়ে আছি, নাটকের শেষ পর্বে। শেষ প্রহরে...!

Monday, April 18, 2016

আমার প্রথম ব্যর্থ ভালোবাসার গল্প

আমি আজ আমার জীবনের একটি ভালোবাসার কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
বেশ অনেকদিন আগের কথা তবুও আপনাদের সাথে শেয়ার না করলে ভাল লাগছে না।
তাহলে এবার শুরু করি...
এটা আমার কলেজ জীবনের প্রথম দিনের ঘটনা,
আমি আগের থেকেই সপ্ন দেখতাম জে কলেজে গিয়ে একটা সুন্দর মেয়ের সাথে প্রেম করবো।
তো সেইরকম মনোভাব নিয়েই আমি আমার কলেজের ভিতর ঢুকছি,
এমন সময় ভিতর থেকে একটা সুন্দর মেয়ে তার বান্ধবিদের সাথে বাইরে বেরচ্ছে,
ব্যাস, সেই মেয়েটার সাথেই আমার প্রেম করতে হবে এইরকম ভেবেই তাকে মনে মনে ভালবাসতে থাকলাম।
দুদিনের ভিতর আমি আমার বান্ধবিদের দিয়ে ওর সম্পর্কে কিছু কিছু তথ্য জোগাড় করলাম।
ওর নাম নেহা।
আমি কথা বলার সুযোগ খুজছিলাম কিন্তু পাচ্ছিলাম না কোনোভাবেই।
তারপর হটাত মাথায় একটা বুদ্ধি আসলো...
আমি ওকে ফেসবুকে খুঁজতে লাগলাম এবং পেয়েও গেলাম।
কি আনন্দ যে হচ্ছিল তখন তা তোমাদের বলে বোঝাতে পারবোনা।
যায়হোক, ফেসবুকে আমি ওকে একটা ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়ে দিলাম।
পরদিন সকালেই দেখি অ্যাক্সেপ্ট করেছে এবং আমাকে গুড মর্নিং লিখে ম্যাসেজ ও পাঠিয়েছে।
খুব খুসি হয়ে গেলাম...
তারপর থেকে আমাদের মোবাইলে ম্যাসেজের বন্যা বয়ে জেতে লাগলো।
আমি ওর সাথে কলেজে এসেও কথা বললাম,
দু-চার দিনের ভিতর আমাদের দুজনের মধ্যে বেশ একটা সুন্দর সম্পর্ক গড়ে উঠল।
কিন্তু আমি ওকে ভালোবাসার কথা বলতেই পারছিলাম না।
এদিকে বন্ধুরা খোঁচাতে লাগলো,
ওরা আর একটা কথাও বলেছিল যে আমি যদি না বলতে পারি তাহলে অন্যরা ওকে পটিয়ে নিয়ে যাবে।
এই কথাটাই আমার মনে বেশি করে বাজল।
পরের দিন আমি একটা সুন্দর গোলাপ নিয়ে গিয়ে ওকে দিলাম
এবং প্রপোজ করলাম।
ও বলল, আমি তোমাকে কখনো ওভাবে ভাবিনি, আমরা খুব ভাল বন্ধু।
আমি বললাম, কিন্তু আমি তোমাকে খুব ভাল বেসেফেলেছি, তোমাকে না পেলে আমার খুব কষ্ট হবে।
ও বলল, তবুও সেটা আর সম্ভব না, আমি অলরেডি একজনকে ভালোবাসি, তাকে ছাড়া আমিও বাঁচতে পারবনা।
তারপর আমি শুধু ঠিক আছে বলে চলে এসেছিলাম,
আর কোনদিন ওর সাথে কথা বলিনি, কিন্তু আমি এখনো ওকে খুব মিস করি।
এখনো মাঝে মাঝে ওর জন্য বুকের মধ্যে হালকা ব্যাথা করে।
তবুও আমি আর ওকে ডিস্টার্ব করিনি কোনদিন।
আমি ভাল করেই বুঝে গেছি যে মেয়েরা সবার সাথেই খুব ভাল ভাবেই কথা বলে।
তাইবলে আমাদের ভেবে নেওয়া উচিত না যে সে আমাকে ভালোবাসে।
তোমরাও আর এরকম ভুল কোরোনা।
তাহলে আজ আর লিখছিনা।
ওকে ভুলে যাওয়ার যদি কোন পদ্ধতি আপনাদের কারোর জানা থাকে তাহলে প্লিজ অবশ্যই আমাকে জানাবেন...

ছেলেটার কিছু অগোছালো কথা

মেয়েটা পাখি হতে চাইল, আমি বুকের বাঁদিকে আকাশ পেতে দিলাম।
দু-চার দিন ইচ্ছে মতো ওড়াওড়ি করে বলল, তার একটা গাছ চাই।
মাটিতে পা পুঁতে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম।
এ ডাল সে ডাল ঘুরে ঘুরে সে আমাকে শোনালো অরণ্য বিষাদ।
তারপর টানতে টানতে একটা পাহাড়ি ঝর্ণার কাছে নিয়ে এসে বলল, তারও এমন একটা পাহাড় ছিল।
সেও কখনো পাহাড়ের জন্য নদী হোতো।
আমি ঝর্ণার দিকে তাকিয়ে মেয়েটিকে বললাম, নদী আর নারীর বয়ে যাওয়ায় কোনও পাপ থাকে না।
সে কিছু ফুটে থাকা ফুলের দিকে দেখিয়ে জানতে চাইল, কি নাম?
বললাম, গোলাপ।
দুটি তরুণ তরুণীকে দেখিয়ে বলল, কি নাম?
বললাম, প্রেম।
তারপর একটা ছাউনির দিকে দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলো, কি নাম?
বললাম, ঘর।
এবার সে আমাকে বলল, তুমি সকাল হতে জানো?
আমি বুকের বাঁদিকে তাকে সূর্য দেখালাম।
ভালোবাসাই পাগোল ছেলের অগোছালো কথা বুঝতে না পারলে আমার কিছু করার নেই, সরি।
আমিও কিছু বুঝতে পারলাম না।

ছেলে মেলে সব সমান

 
এক ভদ্রলোক জুয়েলারির দোকানে গিয়ে প্রেমিকাকে উপহার দেওয়ার জন্য সবচেয়ে দামি ব্রেসলেট চাইলেন। 
দোকানদার বললেন, ‘স্যার, ব্রেসলেটে কি আপনার প্রেমিকার নাম খোদাই করে নেবেন?’
ভদ্রলোক কিছুক্ষণ চিন্তা করে বললেন, ‘না, তার দরকার নেই। তার চেয়ে বরং লিখে দেন, তুমিই আমার প্রথম এবং একমাত্র প্রেম।’
দোকানদার বললেন, ‘স্যার, আপনি আসলেই খুব রোমান্টিক।’ 
এবারে ওই ভদ্রলোক বললেন, ‘এখানে আসলে রোমান্টিকতার কিছুই নেই, পুরোটাই প্রাকটিক্যাল। যাকে এটা দেব যদি তার সঙ্গে আমার ছাড়াছাড়ি হয় এবং এই ব্রেসলেটটি যদি সে ফেরত দেয় তাহলে ব্রেসলেটটি আমি অন্য কোথাও ব্যবহার করতে পারব।’:D :D



বহুদিন পর আমার পুরানো প্রেমিকার চিঠি পেলাম।
চিঠির ভাষা ছিল এই রকম...,
প্রিয় নীল, 
তোমার সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙাটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। 

আজ আমি বুঝতে পেরেছি,পৃথিবীতে তুমিই আমায় সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতে। 
আমরা কি পারিনা পুরানো সম্পর্কটা নতুন করে তৈরি করতে? 
তোমার উত্তরের প্রতীক্ষায় রইলাম। শুনলাম লটারিতে এক কেটি টাকা পেয়েছ সেজন্য অভিনন্দন।
ইতি--তোমার জুলি :P :P

রেস্পেক্ট গার্লস, হেল্প গার্লস, বি হিরো

আজ যে পোস্টটি আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি।
ব্যাপারটা সবার বোঝা উচিত।
মেয়েটি হয়তো অফিস থেকে ফিরছিল... বাসে প্রচণ্ড ভিড় হওয়াতে এক কোণে দাঁড়িয়ে ছিল।
আমি তার ঠিক পিছনে দাঁড়িয়ে। 
মুম্বাই আন্ধেরি থেকে গতকাল চেমবুর মুম্বাই অমার রুমে ফিরছিলাম।
হঠাৎ দেখি মেয়েটি এপাশ ওপাশ করছে, বোঝাই যাচ্ছিল অস্বস্তি বোধ করছে।
খেয়াল করে দেখলাম পাশের লোকটি মাঝে মাঝেই কনুইটা মেয়েটার শরীরের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল।
ভিড় থাকায় অনিচ্ছায় কিংবা ইচ্ছা করেই করছিল সেটা  নিশ্চিত না হয়ে তো লোকটিকে কিছু বলাও যায় না।
আমি একটু এগিয়ে গিয়ে লোকটা আর মেয়েটির মাঝে গিয়ে দাঁড়ালাম আর মেয়েটির পাশে যথেষ্ট জায়গা রেখে দিলাম যাতে উনি কমফোর্ট বোধ করেন। পরে এক জন লোক নামতে মেয়েটি সিট পেল। 
রাস্তা ঘাটে চলতে গেলে কিছু বিকৃত মস্তিস্কের পারভার্টেড মানুষদের জন্য এরকম বাজে অভিজ্ঞতা প্রায় সব মেয়েরই জীবনে কখনো না কখনো হয়।
মানুষ হিসেবে যৌন অনুভুতি ছেলে মেয়ে দুজনেরই থাকলেও অনুভুতি তৈরি হওয়ার বিষয়টা সম্পুর্ন আলাদা।
মেয়েদের অনুভুতি হয় মানুষ কেন্দ্রিক আর ছেলেদের হয় শরীর কেন্দ্রিক। 
প্রকৃতিগতভাবে আমরা এভাবেই তৈরি।
মেয়েরা যে মানুষকে পছন্দ করে, ভালোবাসে, অনুভব করে, শুধু তার জন্যই তাদের এই অনুভুতি তৈরি হয়।
কিন্তু ছেলেদের ক্ষেত্রে একটা শরীর হলেই অনুভুতি তৈরি হয়, এই কারণে পতিতালয় বা আবাসিক
হোটেলগুলোতে ছেলেরাই যায়, টাকা দেয়, খানিক সময় মজা নেয়, এরপর ফিরে আসে।
কিংবা মুভিতে বা রাস্তাঘাটে হট আকর্ষণীয় মেয়ে দেখলেও অনুভুতি জাগে, কিংবা রেপ। 
আকর্ষণীয় হতে হয় না, অনেক সময় বোরখা পরা মেয়ে কিংবা কাজের লোকও বাদ যায় না, এমনকি
কিছু কিছু সময় দুই তিন বছরের শিশুরাও। আজ কাল সংবাদে মাঝে মধ্যেই শোনা জায়।
মেয়েদের দেখলে ছেলেদের যৌন অনুভুতি তৈরি হতেই পারে, এটা নরমাল। 
টেস্টোস্টেরন হরমোন থাকলে হবেই, এটা খারাপ কিছু না কিন্তু একে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে সেটা অবশ্যই খারাপ কিছু।
যাকে পেলাম তার সাথে শুয়ে পড়লাম কিংবা ভিড়ের মধ্যে কোন এক মেয়ের সাথে শরীর ঘষার চেষ্টা করলাম, এগুলো অবশ্যই খারাপ, এটা পারভার্শন, তবে এদের সংখ্যা কম, বেশিরভাগ ছেলেই ভাল।
নিজের স্ত্রী বা পতিতা- যার সাথেই শোয়া হোক প্রক্রিয়া, পদ্ধতি একই রকম কিন্তু পার্থক্য একটাই যে
পতিতার ক্ষেত্রে ভালোবাসা থাকে না, বউয়ের ক্ষেত্রে সেটা থাকে এই জন্যই পতিতার সাথে শুলে
সেটা হয় সেক্স, আর স্ত্রীর সাথে সেটা হয় লাভ মেকিং।
একটি সম্পর্ক হোক সেটা শারীরিক বা মানসিক, সেখানে সব সময় থাকা উচিত একে অপরের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও সত্যিকার অনুভুতি। মানুষ ও পশুর মাঝে এখানেই পার্থক্য।
রাস্তাঘাটে মেয়ে পেলেই নিজের যৌনতা প্রকাশ করার মধ্যে আসলে কোন পুরুষত্ব নেই, প্রকৃত পুরুষ তারাই যারা নারীদের সম্মান করে, তাদেরকে সেফ রাখে, হোক সেই নারী একজন কাজের লোক কিংবা সম্পূর্ণ অচেনা একজন মানুষ।
 

Tuesday, April 5, 2016

বোল্টু যদি জ্যোতিষ হয়

বল্টু এখন ভবিষ্যত বলে দেওয়ার ব্যাবসা শুরু করেছে।
তাই এক মেয়ে তার কাছে গিয়ে বলল...
মেয়েঃ বাবা, আমাকে ভবিষ্যত দেখানো শিখিয়ে দিন।
বল্টুঃ- চোখ বন্ধ করে তোমার গাল আমার কাছে নিয়ে আসো বালিকা।
মেয়েঃ- না।
বল্টুঃ- কেন? . .
মেয়েঃ- আপনি আমাকে Kiss করবেন।
বল্টুঃ- আরে বাহ, তুমি তো ভবিষ্যত দেখা শিখে গেছো। দাও, ৫০১ টাকা দক্ষিণা দাও।

সদ্য বিবাহিতা মেয়ের চিঠি তার মাকে

প্রিয় মা,
তোমাদের ছেড়ে আসার পর থেকে আমার খুব মন খারাপ করে।
সেই ছোট্টবেলা থেকে আর দশটি মেয়ের মতো আমারো বিয়ে স্বমন্ধে খুব কৌতুহল ছিলো।
ভাবতাম বিয়ে মানে, শুধুই নিজের প্রিয় স্বামীর সাথে অনেক অনেক আনন্দে থাকা..।
কিন্তু এখন যখন বিয়ে হয়ে গেছে তখন বুঝতে পারছি, বিয়ে মানেই সুখের চাদরে শুয়ে থাকা না।
বিয়ে মানেই শুধু আর শুধু আনন্দ, বরের সাথে সবসময় কাটানো তা নয়।
বিয়ে মানে হল, অনেকটা দায়িত্ব, কর্তব্য পালন, আত্মত্যাগ, নিজেকে সবরকম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রাখা।
আমি যেকোন সময়ে নিজের ইচ্ছা মত ঘুম থেকে উঠতে পারবোনা, আমাকে সবার আগে উঠতে হবে।
নিজের জীবন পরিচর্যা নিয়ে ব্যাস্ত থাকলে চলবেনা, আমাকে সবার যত্ন নিতে হবে।
বাইরে ঘুরতে যেতে পারবোনা সবসময়, আমাকে পরিবারের পাশে সবসময় থাকতে হবে।
রাজকুমারীর মতো থাকলে চলবেনা, আমায় পরিবারের প্রধান সদস্য হয়ে থাকতে হবে।
এইসব যখন চিন্তা করি, তখন ভাবি বিয়ে কেন করলাম?
আমার ফিরে যেতে ইচ্ছে করে তোমাদের কাছে, ভালোই তো ছিলাম তোমাদের কাছে।
ফিরে গিয়ে তোমাকে জ্বালাতে ইচ্ছা করে, এটা খাবো ওটা খাবো বলে।
বাবার কাছের আবদার গুলো মিস করি, ভাইয়ের সাথে খুনসুটি গুলো মিস্ করি, বন্ধুদের সাথে আড্ডাগুলো মিস করি, খুব ফিরে যেতে ইচ্ছে করে।
ঠিক তখনি তোমার কথা মনে পড়ে মা, তুমিও তো অনেক কষ্ট করেছো, অনেক ত্যাগ দিয়েছো, অনেক পরিস্থিতি সামলেছো।
এইগুলো চিন্তা করে নিজেকে শান্ত করি, ভালো লাগে মনটা...।
তুমি যখন পেরেছো তবে, আমি কেন পারবোনা!
Thanks মা, তোমার কর্তব্য, ত্যাগ, নিষ্ঠা আমার কাছে আদর্শ।
আমাকে লড়তে সাহস যোগায়। Love you মা...