Monday, October 2, 2017

ছেলেরাও তো মানুষ

লেখাটি হয়ত কোন মেয়ের লেখা।
আমি তার লেখাটী সম্পূর্ণ কপি করে আপনাদের সামনে তুলে দিলাম।
আমি একটা মেয়ে হয়ে ছেলেদের সাইড নিয়ে কথা বলছি, 
তাতে অনেক মেয়ে ভাবতে পারে... আলগা পিরিত। কিন্তু অতি বাস্তব।
একটি ছেলে আমার ভাই, একজন পুরুষ আমার বাবা আর একজন পুরুষ যে হবে আমার ভবিষ্যৎ..., তাই কথা গুলা সব মেয়ের পড়া উচিত।
রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছি। পিছন থেকে একটা ছেলে কিছু বললে অথবা শিস বাজালেই এটি ইভটিজিং এবং ওরা মানুষ রূপী অমানুষ..! 
ওদের কি ঘরে মা বোন নেই?
এই কথা কেন আসলো?
কারণ আমি মেয়ে। মেয়ে হচ্ছে মায়ের জাতি। তাদের সম্মান দিতে হয়।
আচ্ছা, যখন মাথায় তেল দিয়ে নম্র ভদ্র শান্ত ছেলেটি বালিকা বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে হেঁটে যায় চুপচাপ, তখন হুঁ হুঁ করে হেসে ওঠা মায়ের জাতিরা কেমন করে বিব্রত করে ছেলেটিকে?
আমাদের কি ঘরে বাপ ভাই নেই? ছেলেটি কি বাপের জাত না??

বাপকে কি সম্মান করা যায় না..!
আচ্ছা, প্রেম করছি দু'জনেই। প্রেমিক সাহেবও তো বেকার, ছাত্র মানুষ।
তাহলে কেন আমিই মিসকল দেব?
ও যদি একটা সিগারেট কম খেয়ে ১০টাকা লোড করতে পারে,
আমি কেন ওর জন্য একটি হেয়ার ব্যান্ড না কিনে কল করার পয়সা জমাতে পারি না?
বন্ধুরা মিলে রেস্তোরাঁ আড্ডা দিচ্ছি। আড্ডার ফাঁকে মুখরোচক খাবার ও খেলাম কয়েক পদ।
আচ্ছা, ছেলে বন্ধুটিই কেন ওয়ালেট টি বের করে বিল দিবে?
আমার পার্স থেকে কেন বের হয় না বিলটা?
ও তো আমাকে টেডিবিয়ার, চকোলেট কত্তকিছু উপহার দেয়।
কই আমি তো একটি গোলাপ ও কেনার কথা মনে করিনা।
গাড়িভাড়া গুলোও আমার ঐ বন্ধুরাই দিচ্ছে, বাসের সিট ছেড়ে দিচ্ছে,
লাইনে দাঁড়ালে আগে যেতে দিচ্ছে (লেডিস ফার্স্ট)। বিপদে পড়লে দৌড়ে আসছে, আনন্দে হাসছে, বেদনায় সান্ত্বনা দিচ্ছে, আশা দিচ্ছে, ভরসা দিচ্ছে, রাগ করে গালিও দিচ্ছে, আবার অতি কষ্টের ভাগীদার হয়ে গোপনে কাঁদছে।
কখনো ভেবেছি সম্মানিত মা জাতি হিসেবে, কেমন লাগে ঐ তেল মাথায় কেবলাকান্ত ছেলেটির, যখন বুঝতে পারে একদল মেয়ে ব্যঙ্গ করছে তাকে নিয়েই??
প্রেমিক টি কয়েক মিনিট কথা বলতে প্রতিদিন রিচার্জ করছে কত ধান্ধা করে। 
কিন্তু ভেবেছি কি কখনো? আমারও কল করা উচিত, ও কেন কেটে ব্যাক করে সবসময়? 
কখনো অনুভব করেছি কি..! কেমন লাগে ঐ মুহূর্তে একটি ছেলের যখন তার পকেট পুরো ফাঁকা। অথবা শেষ ১০০টাকা বিল দিলে আগামী সাতদিন তাকে হেঁটে টিউশন করতে যেতে হবে, তবুও বিল টা সেই দেয়।কারণ সে বাপের জাত।
কই কখনো ভাবি নি তো, একটি গোলাপ তার হাতে দিলে আবেগে সে কতটা আত্মহারা হতে পারে..! 
তার বিপদে কখনো হাতটা চেপে ধরে দেখেছি..! একটু হলেও তো আস্থা পেত ছেলেটি। হতাশ ছেলেটিকে সাহস দিয়ে বলেছি কি..!
"আর বিড়ি খাস না, ভাল দিন আসবেই।"
তারা তো কাঁদতে জানে না। বালিশ না ভিজলেও নিকোটিনের ধোঁয়া জানে কতটা নির্ঘুম রাত কাটায় তারা।
তারা ভাই, তারা বাবা, তারা প্রিয়তম, তারা বন্ধু, তারা হারামী।
কিন্তু তাদের কত্ত দায়িত্ব..!
আমরা শুধু নিয়েই যাচ্ছি। কেন বিনিময়ে দিতে পারছি না?
মায়ের জাতি হয়ে তিন গুণ বেশি পাওনা আমার। কিন্তু বাপের জাতিকে এক ভাগ ও দিই না কেন?

ভাবি নি... ভাবার সময় হবেও না হয়তো......।
 

আপনি কি ছ্যাকা খেয়ে ব্যাকা হয়ে গেছেন ?

আপনি ছ্যাকা খেয়ে ব্যাকা হয়ে গেছেন?
খুবকষ্ট হয় আপনার?
মরে যেতে ইচ্ছে করে?
নেশা করেন?
লেখা পড়া ছেড়ে দিয়েছেন?
মন খারাপ করে থাকেন?
আপনি আপনার জীবনটা নিয়ে খুব বোরিং?
খুব হতাশাগ্রস্থ আপনি?
জীবনটিকে তিলে তিলে শেষকরে দিচ্ছেন?
আপনার উত্তর যদিহ্যাঁ হয়, তবে আপনাকে বলছি।



তুই ছেলেই হ আর মেয়েই হ, থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দেবো।
কি পেয়েছিস কি?
জীবনটাকে দু-টাকার কয়েন ভেবেছিস?
তুই কি জানিস , তুই কতটা প্রিয় তোর বাবার কাছে?
তুই কি জানিস তুই তোর মায়ের কাছে সাত রাজার ধন?
তুই কি জানিস একটি সন্তান জন্ম হওয়ার জন্য, মাকে কতটা ব্যাথা সহ্য করতে হয়?
তুই কি জানিস তোর মা তোকে দশ মাস, দশ দিন গর্ভে ধারণ করে রেখেছিলো?
কে না কে তোকে ছেড়ে গেছে, তাতে তুই কষ্ট পাবি?
এত মূল্যবান একটা জীবন নষ্ট করবি?

কেনো তুই এত অবুঝ?
যে গেছে তো গেছে-ই।
ও গেছে আরেকজন আসবে।
এত ভাবিস কেনো? 
তুই ডিজিটাল যুগে এসে যদি এত বোকামী করিস তবে রাগ তো হবেই আমার!
এই জামানায় প্রেমের শোকের আয়ু বড় জোড় কয়েক সেকেন্ড।
এটা এই জামানায় বেঁচে থাকার মূল মন্ত্র।
আচ্ছা তুই যদি মরে যাস তবে যে তোকে ছেড়ে গেছে সে তো দূর থেকে বলবে,
বাব্বা বেঁচে গেছি অল্পের জন্য।
আর যদি তুই বড় মানুষ হোস তবে দেখবি, সে দূর থেকে আফসোস করে বলবে, ইস কেনো যে ওকে ছেড়ে এলাম!
সো, কিছু করে দেখাও বস।

কিছু ভুল শোধরানো যায়না

আমি আর আগের মতো অবাক হই না।
অবাক হতে পারি না।
হয়তো অবাক হওয়ার ক্ষমতা টা নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
মানুষ কারনে অকারনে অবাক হয়।
মানুষ হওয়ার সুবাধে আমার অবাক হওয়ার প্রয়োজন ছিলো।
কারন ইন্টার্ভিউ দিতে গিয়ে আমার প্রাক্তন প্রেমিকার সাথে অনেকদিন পর দেখা হয়ে গিয়েছে।
সে কিন্তু আমার মতো ইন্টার্ভিউ দিতে আসে নি।
সে স্বয়ং একজন ইন্টার্ভিউয়ার।
এই কারনে আমার অবাক হওয়ার দরকার ছিলো।
কিন্তু আমি এখন কোনকিছুতে অবাক হওয়ার আগে জিনিসটা ব্যাখ্যা করি।
ব্যাখ্যা করতে ব্যার্থ হলেও অবাক হই না।
সবকিছুরই একটা ব্যাখ্যা আছে।
এখন না পারি পরে হয়তো এর ব্যাখ্যা অবশ্যই পেয়ে যাবো।
নীরা আমার প্রাক্তন প্রেমিকার নাম।
এখন তো প্রাক্তন কেউ বলে না।
ইংরেজি শব্দ ব্যাবহার করে, এক্স গালফ্রেন্ড।
যাকে আজ ইন্টার্ভিউ রুমে দেখলাম।
কিন্তু সে আমার মতো না। সে অনেক অবাক হয়েছে।
তার অবাক হওয়া দৃষ্টি আমি দেখেছি।
তার অবাক হওয়ার অনেক কারন আছে।
এর প্রধান কারন হতে পারে আমি এখন ও চাকরির জন্য ঘুরছি যা হওয়ার কথা না।
আমি ক্যারিয়ারের ভালোর জন্য, একটা ভালো ভবিষ্যৎ এর জন্য তার সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেছি।
বর্তমানে যাকে বলে ব্রেক-আপ। সবচেয়ে বহুল ব্যাবহ্রত শব্দ।
কারনে অকারনে এই শব্দের প্রয়োগ হয়।
সবাই যখন বিভিন্ন সাধারন প্রশ্ন করছে চাকরির বিষয়ে আমার সম্পর্কে। 
তখন নীরা করলো অদ্ভুদ এক প্রশ্ন। যা এখানে মানায় না।
সে বললো,'মি. সাহেব আপনি কি কোন রিলেশনে আছেন বর্তমানে?' আমি অবাক হলাম।
মনে হলো পৃথিবীর সবচেয়ে অবাক করা প্রশ্ন এটি যা আমার অবাক হওয়ার গুন ফিরিয়ে এনেছে।
অবাক হওয়ার ভঙ্গি না করে উত্তর দিলাম,'না'
নীরার সাথে সম্পর্কের সময় এর চেয়ে আরো বেশি অবাক করা কথা বলতো।
তার সাথে আমার সম্পর্কের শুরু ইউনিভার্সিটির সময় থেকে।
আমি তখন ৩য় বর্ষ আর সে নতুন।
তাকে প্রথম দেখি আমার বন্ধুর সাথে।
আমার বন্ধুর দূরসম্পর্কের বোন হয় নীরা।
আমরা বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম তখন। 
আমি গিটার আর অন্য সবাই গান গাইছিলো।
গিটার বাজানোর শখ আমার স্কুল জীবন থেকে ছিলো।
কিছু শখ সময়ের সাথে সাথে মিটে যায়।
আমারো তাই হলো।
অনেকদিন হলো গিটারের তারগুলোতে হাত বুলায় না!!!
নীরা কে আমাদের সবার সাথে পরিচয় করালো আমার বন্ধুটি।আমাদের ভার্সিটিতে সে নতুন ভর্তি হয়েছে।
প্রথমদিন তেমন রুপবতী মনে হয়নি নীরাকে আমার কাছে।
যদিও আমি তেমন ভাবে দেখিনি।
মেয়েদের দিকে তেমন তাকাতামও না।
চোখে চোখ পড়লেই ভয় লাগতো। বুক ধড়ফড় করতো।
যার কারনে সব বন্ধুরা যখন ইন আ রিলেশনশিপ আমি তখন সিংগেল।
নীরার সাথে যখন পরেরবার দেখা হলো।
মনে হলো পৃথিবীর সবচেয়ে রুপবতী মেয়ে নীরা।
চোখে কাজল দেওয়ার কারনে হয়তো চেহারা টা আরো সুন্দর দেখাচ্ছিল। 
তখন মনে হলো এই কারনেই হয়তো আমি সিংগেল ছিলাম।
প্রেম মনে হয় নীরার কারনেই করা হয়নি।
আমার প্রেম জীবনের অভিষেক হয়তো নীরার মাধ্যমেই হবে।
তাকে নিয়ে গেলাম ক্যাম্পাস টা ঘুরে দেখাবার জন্য।
তার চোখের দিকে তাকিয়ে ক্যাম্পাস সম্পর্কে বর্ণনা দিতে লাগলাম।যা আগে কোন মেয়ের সাথে করা হয় নি।
তার পরিবার ও তার নিজের সম্পর্কে কিছু জেনে নিলাম।
আমার নিজের সম্বন্ধেও কিছু পজিটিভ কথা বললাম কারন
আমার এখন মেইন টার্গেট নীরার সাথে প্রেম করবো তা না হলে জীবনের ষোল আনায় বৃথা হয়ে যাবে বলে মনে হয়েছিলো।
আমার ফোন নাম্বার টা সে নিজে থেকে নিয়ে আমার মোবাইলে কল
করল যাতে আমি ওর নাম্বার টা পাই।
এর পরে কিভাবে যেন আমাদের সম্পর্ক টা হয়ে গেলো।
যতো কঠিন ভেবেছিলাম তত কঠিন লাগে নি।
আমার বন্ধুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম নীরা সিংগেল কিনা?
কিন্তু সে এমন ভঙ্গি করে আমার দিকে তাকিয়েছিলো যেন সব বুঝে গেছে আর কিছু বলতে হবে না।
পরেরদিন ঘটলো অবাক করা ঘটনা।
সে আমাকে সবার আলাদা নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো, 'আপনি নাকি আমাকে পছন্দ করেন' আমার দিকে তাকিয়ে উত্তরের জন্য অপেক্ষা করলো।
'কে বললো এ কথা?' কারন আমি এ কথাটির জন্য অপ্রস্তুত ছিলাম।
'তার মানে পছন্দ করেন না'
'মানে!' আমতা আমতা করতে লাগলাম। 
'পছন্দ না করলে আমাকে অন্য একটি নাম্বার দিয়ে কল দিয়ে কথা বলেন না কেন? 
আমার ফেসবুকে রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে আবার ক্যান্সেল করে দেন কেন? 
নিলয় ভায়ের কাছ থেকে আমার খোজ নেন কেন।
আমি সিংগেল আছি কিনা জিজ্ঞেস করলেন কেনো?' 
এতো প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তাই আসল কথাটা বলেই ফেললাম।
মনে হচ্ছিল দেরি করা ঠিক হবে না।'
আমি তোমাকে পছন্দ করি। আমি তোমাকে ভালোবাসি।'
সেই থেকে অনেক দিন আমাদের সম্পর্ক চললো।
ফোন কোম্পানিকে বড়লোক করার পদ্ধতি টা আমাদের গ্রহন করা শুরু হয়েছিল।
রাতের পর রাত শুধু ফোনালাপ।
নীরার সাথে আমার যেদিন শেষ কথা ও দেখা হয়েছিলো। 
সেদিন তার আংগুলে আমার দেওয়া আংটি টি দেখতে পাই নি।
সেদিন আমি তাকে ফোন করে বলেছিলাম তাকে একটা জরুরী কথা বলবো।
সেও বলেছিলো তার একটা জরুরী কথা আছে। 
আমার মনে হয়েছিলো তার জরুরী কথা টা এমন হবে যার কারনে আমি তার মায়া ছাড়তে পারবো না।
মায়া ছাড়াতে এসেছি, এখন আবার মায়ায় পড়ে গেলে হবে না।
তাই আমি কথাটা আগে বলতে চাইছিলাম। 
কিন্তু নীরা আমাকে বাধা দিয়ে সে আগে বলতে চেয়েছিলো। 
তখন বুঝি নি কেনো সে তার জরুরী কথা টা আগে বলতে চেয়েছিলো? 
পরে বুঝেছিলাম, কারন সেও আজকে মায়ার বাধন ছিঁড়তে এসেছিলো ছড়াতে নয়!
নীরা কিছু বলতে যাবে সে মুহূর্তে আমি বলে দিলাম' আমি তোমার সাথে আর থাকতে চায় না। আমি আমার ক্যারিয়ারের দিকে মন দিতে
চাই।'
নীরা চুপ করে নিচের দিকে তাকিয়ে ছিলো।
'আমি তোমার সাথে সম্পর্ক চালাতে গিয়ে নিজের লাইফটাকে ভালো করে চালাতে পারছি না।'
নীরা আমার দেওয়া আংটিটা দিয়ে বললো' আমি ও তাই চাইছিলাম।এজন্যই এসেছি। আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছে'
সেদিনের পর আজ তাকে ইন্টার্ভিউ রুমে দেখলাম।
আমার তিন বছরের জুনিয়র হয়েও আমার আগে চাকরি করছে এ নিয়ে আমি অবাক হয়নি। কারন এর একটি  ব্যাখ্যা দাড় করিয়েছি।
নীরার সাথে সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর তার দাদা মানে আমার বন্ধু নিলয়ের কাছ থেকে শুনতে পাই যে নীরার বিয়ে হয়েছে বিরাট ধনী এক লোকের সাথে। মাথায় চুল নেই। 
টাক হওয়ার কারনে সবসময় চুল শেভ করে রাখে।
ইন্টার্ভিউ রুমেও আজকে এরকম একটা লোককে দেখতে পেয়েছি।হতে পারে এটাই নীরার স্বামী। 
আর নীরা এখানে নিজের স্বামীর কোম্পানিতে বড় কোন পদে চাকরী করে। .
আরেকটা নতুন বায়োডাটা অন্য কোম্পানিতে পাঠাবো বলে ভাবছিলাম। 
পত্রিকায় একটা চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখতে পেয়েছি।
কারন আমি নিশ্চিত ছিলাম নীরার কোম্পানিতে আমার
চাকরি হয়ে যাবে। 
তার ভুল বা আমার ভুল যার ভুলের কারনেই আমাদের সম্পর্ক ভাঙুক না কেন। নীরা তার স্বভাব মতো দয়ালু হবে।
আমার যোগ্যতা থাকুক আর না থাকুক এই চাকরিটা আমার হওয়ার পিছনে তার বিশাল অবদান থাকবে।
আমার ধারনা ভুল প্রমানিত হয় নি। 
নীরার কোম্পানি থেকে আমাকে জয়েন করার জন্য বলা হয়েছে সকালে আমার নামে দুটি চিঠি এসেছে।
জয়েন করার আগে কোম্পানির এমডির সাথে দেখা করার জন্য আলাদা আরেকটি চিঠি দেওয়া হয়েছে।
আমি নিশ্চিত এইটা নীরার কাজ।
নীরার কাজ সফল হক আমি তা চাইছি না এই মুহূর্তে। 
তাই চিঠি আর এপয়েনমেন্ট লেটার টা ছিড়ে ফেলে দিলাম আর চাকরির সংবাদ ফিচারে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি খুজতে লাগলাম।

Sunday, July 23, 2017

সৎমা কোনো নির্দিষ্ট শব্দ নয়

ঘরের একটা কোনে চুপটি করে দাঁড়িয়ে আছে রোহিনী।
বছর সাতের রোহিনী ,ভয়ে জড়োসড়ো, একটা নতুন অপরিচিত মানুষ হঠাৎ তাদের বাড়িতে এসে ঢুকলো।
রোহিনীর বাবার নতুন বউ। রাঙা দিদা বলেছে ,নতুন মা বলতে।
রোহিনী বলেছিলো, আন্টি বললে হয় না?
মায়ের ছবিটা চোখের সামনে এখনো ভাসছে। 
মাত্র বছর খানেক হলো কিডনি অকেজো হয়ে মা চলে গেলো রোহিনীকে ছেড়ে।
রোহিনী তো ভীষণ শান্ত তবুও যে কেন বাবা রোহিনীকে সামলাতে পারছে না বলে একটা নতুন মা নিয়ে এলো কে জানে!! 
এই মায়ের নাম নাকি নিবেদিতা। বেশ মিষ্টি মিষ্টি দেখতে ,ফর্সা ,রোহিনীর মত কালো নয়। 
রোহিনীকে নাকি আর বাবা ভালোবাসবে না, নতুন মাকে নাকি সৎ মা বলে, সে তো রোহিনীকে খেতেও দেবে না। পাশের বাড়ির আন্টিরা বলেছে। ভীষণ ভয় করছে রোহিনীর।

সোফায় বসেই নতুন মা রোহিনীকে ডাকলো, রোহিনী জড়সড় হয়ে গিয়ে বলল, আমি তোমাকে আমার সব টেডি দিয়ে দেব, প্লিজ আমাকে মেরো না। 
নতুন মা বললেন, ওসব কথা পরে হবে এখন তুমি আমাকে কি বলে ডাকবে বলো তো?
রোহিনী বললো, আন্টি বলবো না, নতুন মা বলবো,তাহলে...
কথা শেষ না হতে দিয়েই উনি রোহিনীকে কোলের কাছে বসিয়ে বললেন, ঐ যে ছবিটা দেখছো ওটা তোমার মা। 
আমি তোমার একটা বন্ধু। তুমি আমাকে নিনি ডেকো, ওটা আমার ডাকনাম।
আরেকটা কথা আমি ঐ তুলোর কথা না বলা টেডি পছন্দ করি না, আমার এইরকম চোখ নাক নড়ছে, মিষ্টি মিষ্টি কথা বলা টেডিই পছন্দ, আমার এটাকে চাই। বলেই রোহিনীর গলায় কাতুকুতু দিতে লাগলো।

তারমানে বাবা রোহিনী একা থাকে বলে রোহিনীর জন্য একটা বন্ধু এনেছে, সৎ মা নয়...
বন্ধ নিঃশ্বাসটা একটু একটু করে বেরিয়ে গেলো রোহিনীর। 
নিনি বেশ ম্যাজিক জানে....দশ মিনিটের মধ্যেই ওর পছন্দের এগ টোস্ট বানিয়ে দিলো। রাত্রিবেলা রোহিনী ভয় পাবে বলে নিনি রোহিনীর পাশেই ঘুমোতো।
যেদিন স্কুলের স্পোর্টসে রোহিনী হেরে গিয়েছিলো, খুব কাঁদছিলো, সেদিন ওর নিজের সেই চুলে ঝোটকন বাঁধা ছবিটা দেওয়া একটা কফি মগ  নিনি ওকে প্রাইজ দিয়েছিলো। বলেছিলো, হেরে যাওয়া আছে  বলেই না জয়ের আনন্দ আছে। তাই হেরে যাওয়াকেও সেলিব্রেট করো। 
তারপর কবে যেন রোহিনী বড় হয়ে গেছে, কিন্তু নিনি কোনোদিন মা হয়নি। রোহিনী এখন কলেজের স্টুডেন্ট, নিনির সাথে একই বিছানায় শোয় না। নিনিও বাবার ঘরে ঘুমায় না, ও বাবার স্টাডির ছোট্ট ডিভানে ঘুমোয়।

মাঝে মাঝে নিনিকে মা বলে ডাকতে ইচ্ছে করে রোহিনীর কিন্তু এতো বছরের অনভ্যাসে, সংকোচ কাটিয়ে ডাকা হয়ে ওঠেনি।
রোহিনীর খুব ইচ্ছে ফিল্ম মেকিং নিয়ে পড়ার, পুনেতে গিয়ে থাকতে হবে শুনেই রোহিনীর বাবা এক বাক্যে না করে দিয়েছে। এখন একমাত্র ভরসা নিনি। 
রোহিনী অপেক্ষা করছিল নিনির ঘরে, নিনি বোধহয় বাথরুমে ঢুকেছে।  ভিজে কাপড়েই নিনি ঘরে ঢুকলো। রোহিনী অবাক হয়ে দেখছিল, দুধে আলতা গায়ের রঙে আকাশনীল ভিজে কাপড়টা কি অদ্ভুত ভাবে নিনির শরীরের মধ্য যৌবন ফুটিয়ে তুলেছে। 
হঠাৎ রোহিনীর মনে একটা প্রশ্ন জাগলো! আচ্ছা নিনি আর বাবাকে তো কোনোদিন কোনো অন্তরঙ্গ মুহূর্তে দেখেনি  সেই ছোট্ট থেকে।রোহিনীর ছোট বেলায় নিনি ঘুমোতো ওর ঘরে এখন বাবার স্টাডিতে।বাকি সময় হয় রান্না ঘর নয় ডাইনিংয়ের টিভির সামনে তাহলে নিনির সাথে কি বাবার কোনো স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নেই?

নিনির আদরের মধ্যেও এমন একটা গাম্ভীর্য আছে যেটার জন্য রোহিনী কিছুতেই প্রশ্নটা করে উঠতে পারে না।

নিনি রোহিনীর মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, মনের ভিতরের কথাটা মনে চেপে না রেখে বলে ফেলাই উচিত। রোহিনী লজ্জা পেয়ে বললো, আমি পুনেতে গিয়ে পড়তে চাই বাবাকে রাজি করানোর দায়িত্ব তোমার। 

নিনি যেন চমকে উঠলো, অথচ এর আগে রোহিনীর খেলনার বায়না, চকলেটের বায়না, পোশাকের বায়না  সবই তো বাবাকে বলে নিনিই সামলেছে, আজ কেন নিনি এতটা ফ্যাকাসে হয়ে গেলো?

রোহিনীর মাথায় আস্তে আস্তে সেই ছোটবেলার মতো হাত বোলাতে বোলাতে নিনি বললো, রোহিনী আমার বোধহয় এতটা অধিকার নেই। তুমি ফিল্ম মেকিং নিয়ে ডিগ্রি কোর্স করার জন্য পুনে যেতে চাও সেটাতে তো তোমার বাবার আপত্তি আছে। অন্য মায়ের মতো সন্তানের ওপর অধিকার তো আমার নেই তাই, রোহিনী অবাক হয়ে দেখছে অন্য এক নিনিকে। যে খুব কষ্ট করে কান্নাগুলোকে গলার মধ্যে গিলে নিচ্ছে। রোহিনী ,তুমি বড় হয়েছ সত্যিটা জানানোর সময় এবার এসেছে ....।
আমি ছিলাম তোমার বাবার অফিসের পি.এ। আমার সৎ মা আমাকে একটা খারাপ পাড়ায় বিক্রি করে দিচ্ছিল, সেই অবস্থায় আমি খুব বিপদে পড়ে তোমার বাবার কাছে সাহায্য চাই। উনি তোমার দেখাশোনার জন্য গভর্নেস হিসেবে আমাকে নিযুক্ত করেন কিন্তু আমরা রেজিস্ট্রি ম্যারেজ করি শুধু সমাজের ভয়ে। এক বাড়িতে থাকবো কোনো পরিচয় ছাড়াই তা হয়না। 
রোহিনীর এই প্রথম মনে হলো নিনি নয়, নতুন মা নয়, শুধু মা বলে ডাকা উচিত নিনিকে। 
রোহিনী গলাটা জড়িয়ে ধরে মা বলে ডেকে উঠলো নিবেদিতাকে। 
নিবেদিতা যেন সর্বস্ব দিয়ে আগলে ধরলো রোহিনীকে। 

মায়ের ছোঁয়ায় কোথাও সৎ মায়ের স্পর্শ ছিল না। সেই তেরো বছর  আগের এক রাতের কথা মনে পড়ে গেলো রোহিনীর....।

জ্বরে রোহিনীর গা পুড়ে যাচ্ছে। চোখ মেলে দেখলো একটা ঠান্ডা হাত ওর কপালে, আর দুটো রক্তিম নির্ঘুম চোখ ওর মুখের দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে আছে। 

সেদিনও নিনির ছোঁয়াটা ঠিক আজকের মতোই ছিল তারমানে এই তেরো বছরে রোহিনী বদলেছে কিন্তু নিনি বদলায়নি একটুও। তারমানে সত্যিই সৎ মা বলে নির্দিষ্ট কোনো শব্দ হয় না। ভালোবাসা থাকলে মা হয়ে উঠতে দেরি হয়না। আর বন্ধনহীন সম্পর্ক যতই নাড়ি ছেড়া হোক সেটা দূরে যেতেও সময় লাগে না। 

রোহিনীর বাবা রাধাকান্ত সরকার আজ একটু তাড়াতাড়ি অফিস থেকে ফিরে এসে দেখলেন, নিবেদিতার কোলে রোহিনী শুয়ে আছে আর নিবেদিতা ওর চুলে বিলি কেটে দিচ্ছে। ওকে দেখেও মা মেয়ের কারোর নিজেদের সুখানুভুতি থেকে  একটুও সরতে ইচ্ছে করছে না সেটা ওদের দেখেই বোঝা যাচ্ছে। রাধাকান্তর সত্যিই মাঝে মাঝে অবাক লাগে নিবেদিতাকে দেখে, সেই যে কথা দিয়েছিলো শুধুই রোহিনীর মা হবার চেষ্টা করবে বাড়ির গৃহিণী নয়, সে কথার মর্যাদা ও রেখেছে। 

রোহিনী ডেকে উঠলো,বাবা! 
আমার একটা অনুরোধ তোমায় রাখতে হবে। আজ থেকে তোমার বেডরুমটা মায়ের হবে, মা আর স্টাডিতে শোবে না। 
নিবেদিতা রোহিনীর মুখে হাত চাপা দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করছে। রাধাকান্ত অবাক!!
রোহিনী কোনোদিন ওর সামনে দাঁড়িয়ে এভাবে কথা বলেনি, আজ হঠাৎ কি হলো?
রাধাকান্ত বললো, আমি তোমার মাকে বলিনি কোনোদিন আমার ঘরে ঢোকা তার বারণ আছে। সে যেকোনো সময় এই বাড়ির যেকোনো ঘরে যেতেই পারে, তার সে অধিকার আছে। 

নিবেদিতা আবার মনে মনে প্রণাম করলো ভগবানের মত মানুষটাকে।মারা যাবার আগে নিশ্চয় স্ত্রীর পরিচয়ে তার বুকে একবার মাথা রাখবেই নিবেদিতা।

রোহিনীর পাগলামি মাত্রা ছাড়িয়েছে। নিবেদিতার কোনো কথাই সে শুনছে না আজ, কিছু বারণ করতে গেলেই বলছে তাহলে কিন্তু জলে ভিজে ঠান্ডা লাগবো। রোহিনীর জলে ভিজলেই জ্বর আসে নিবেদিতা তাই ওই ব্যাপারে খুব সাবধানে রেখেছে মেয়েকে। 
গতকাল থেকে আর একবারও রোহিনী নিনি বলে ডাকেনি।
কারণে অকারণে মা বলে ডেকে চলেছে। ভালোলাগায় শিউরে উঠেছে নিবেদিতা কিন্তু রোহিনী এখন যেটা শুরু করেছে সেটা তো মানা যায় না!!
নিবেদিতার সমস্ত শাড়ি, জিনিসপত্র সব এনে বাবার আলমারিতে বাবার জামা কাপড়ের পাশে সাজিয়ে রাখছে। 
লজ্জায় মরে যাচ্ছে নিবেদিতা। রাধাকান্ত বাবু মেয়ের কান্ড দেখে মুচকি মুচকি হাসছেন।

রাতে জোর করে নিবেদিতাকে বাবার ঘরে পাঠিয়ে দিলো রোহিনী।
ওর চোখে মুখে যেন বিশ্ব জয়ের হাসি। 
নিবেদিতা ধীর পায়ে ঘরে ঢুকছে। ৪১ বছরের নিবেদিতা যেন নববধূ এতটা সংকোচে সে আর কখনো পড়েনি।
রাধাকান্ত বাবু হাত ধরে নিবেদিতাকে পাশে বসালেন, ধীরে ধীরে বললেন, একটা জীবন চালানোর জন্য স্ত্রীর থেকেও বেশি দরকার হয় একজন বন্ধুর। যে মনের কাছাকাছি থাকবে, যার সাথে সুখ দুঃখের সব কথা প্রাণ খুলে বলা যাবে, কিছু কিছু সম্পর্ক থাকে যেগুলোর হয়তো সঠিক নাম নেই কিন্তু সে না হলে সব অকেজো হয়ে যায় নিমেষে, তুমিও ঠিক তেমনই আমার কাছে। নিবেদিতা চলো আমরা বন্ধু হই আজ থেকে। 

নিবেদিতা নীরবে নিজের হাতটা রাধাকান্ত বাবুর হাতের উপর আলতো করে দিয়ে নিজের সম্মতি জানালো। 

লেখকঃ মনিরুজ্জামান সোহেল  



মনের কথা


অবহেলার একটা লিমিট থাকা দরকার...।
কেউ একজন তোমাকে দিনের পর দিন কেয়ার করে যাচ্ছে 
আর তুমি সেগুলো মুচকি হেসে এড়িয়ে গিয়ে ভাবছো 'এসবই তোমার প্রাপ্য...
এরকম তো কতোজনই আছে কেয়ার করার মতো,
যদি এমনটি ভেবে থাকো তাহলে তুমি ভুল ভাবছো...।
হাজার মানুষের কেয়ারের ভিড়ে তুমি আসল মানুষের আলাদা কেয়ারটুকু টের পাচ্ছোনা। একদম না।
কেউ একজন তোমার ছোট্ট একটি "লেখার আশায় ঘন্টার পর ঘন্টা মোবাইলে ডাটা অন রেখে
কি পরিমান ছটফট করতে পারে তুমি সেটা দেখতে পাওনা বলে এমনটা ভাবছো...।
মেসেজবক্সে হাজার হাজার শব্দ মিলিয়ে দু-ঘন্টা ধরে সাজানো কষ্টের
ভাষা গুলো লিখে সেন্ড করার ঠিক আগ মূহুর্তে ডিলিট বাটনে
চাপ দিয়ে ধরে রাখাটা যে কতটা যন্ত্রনার তুমি সেটা বোঝোনা বলে এমনটি করো...।
তোমার একটি মাত্র ফোন কলের আশায়
বিছানার এপাশ-ওপাশ করে কতো যে নির্ঘুম রাত কেটে গেছে।
তুমি সেটা কখনই জানতে চাওনি বলে মানুষটিকে সস্তা ভাবো...।
বিশ্বাস করো তোমার থেকে অবহেলা পাওয়া এই মানুষটা মোটেই সস্তা কোনো মানুষ নয়.., অদ্ভুত রকমের একটা ধর্য্য- শক্তি আছে এর মাঝে...।
মনে রাখবে "ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া মানুষের অভাব নেই পৃথিবীতে...।
কিন্তু পড়ে যাওয়া মানুষটিকে হাত ধরে টেনে তোলার মানুষের বড়ই
অভাব..। খুব, খুব অভাব..।
তাই কাউকে পেয়েও হারিয়ে যেতে দিওনা।